’কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর দীর্ঘদিন দর্শকেরা অপেক্ষা করছিলেন সাউথের ‘রকিং স্টার’ যশের পরবর্তী বড় পর্দার অভিষেকের জন্য। অবশেষে গীতু মোহনদাসের পরিচালনায় প্যান-ইন্ডিয়া গ্যাংস্টার অ্যাকশন ড্রামা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ (Toxic: A Fairy Tale for Grown-Ups) প্রেক্ষাগৃহে মেগা রিলিজের জন্য প্রস্তুত।
আর মুক্তির আগের মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে এই ছবিকে ঘিরে যে বাঁধভাঙা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা ভারতের বক্স অফিসের পুরোনো অনেক রেকর্ডই ওলটপালট করে দিতে পারে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের দাবি, প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করে এক নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে যশের এই কামব্যাক সিনেমা।
বিশ্বজুড়ে ১২ হাজারেরও বেশি স্ক্রিনে গ্র্যান্ড রিলিজ
একটি ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে মুক্তির পরিসর ঠিক কতটা বিশাল হতে পারে, ‘টক্সিক’ তা প্রমাণ করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২,০০০-এরও বেশি স্ক্রিনে ছবিটি একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম রিলিজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটির নাগাল আরও বাড়িয়ে তুলতে যুক্ত হয়েছে বিখ্যাত ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ‘লায়নসগেট’ (Lionsgate)। তারা বিশ্বব্যাপী এই সিনেমার ইংরেজি সংস্করণটি পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে।
এছাড়া মূল কন্নড় ভাষার পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালায়লাম এবং ইংরেজি—মোট ছয়টি ভাষায় বড় স্কেলে ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সিনেপ্রেমীদের কাছে সহজে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অ্যাডভান্স বুকিংয়ে অবিশ্বাস্য রেকর্ড: বিক্রি ১০ লাখেরও বেশি টিকিট
প্রেক্ষাগৃহে প্রথম শো শুরু হওয়ার আগেই কালেকশনের দৌড়ে ‘টক্সিক’ যেভাবে ঝড় তুলেছে, তা এককথায় দেখার মতো। ভারতের বাজারে শেষ মুহূর্তের অগ্রিম টিকিট বিক্রির হিসাব ট্রেড বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে:
- টিকিট বিক্রির সংখ্যা: মুক্তির প্রথম দিনের জন্যই ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের (১ মিলিয়ন) বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
- ব্লক সিট ছাড়া আয়: ভারতের বাজারে কোনো রকম ব্লক সিট ছাড়াই অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকে আয় ছাড়িয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।
- ব্লক সিট সহ আয়: ব্লক সিট হিসাবের মধ্যে আনলে প্রথম দিনের অ্যাডভান্স কালেকশন ইতিমধ্যেই ৪৬ কোটি টাকা পার করে গেছে।
- চূড়ান্ত পূর্বাভাস: ট্রেড বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথম শো শুরুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কেবল অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকেই এই সিনেমা ৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যবসা তুলে নেবে। বিশেষ করে কর্ণাটক এবং হিন্দি বলয়ে টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও হিন্দি অঞ্চলের দর্শকেরা এই ছবির ট্রেলার ও কনসেপ্টকে অনেক বেশি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
৩ ঘণ্টার রান টাইম এবং ‘A’ সার্টিফিকেট: গ্যাংস্টার থ্রিলার
সাধারণত ভারতীয় বক্স অফিসে পরিবার কেন্দ্রিক বা হালকা মেজাজের মাস-এন্টারটেইনার ছবিগুলো দ্রুত ব্যবসা টানে। তবে ‘টক্সিক’ হেঁটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।
ছবিটিকে সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে ‘A’ (Adults Only) সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য রাখা হয়েছে ৩ ঘণ্টারও বেশি। কোনো কাটছাঁট ছাড়া সেন্সর বোর্ডের এই তকমা প্রমাণ করে যে, এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক মশলা সিনেমা নয়; বরং এটি একটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ইনটেন্স গ্যাংস্টার স্পেকটেকল। এত বড় রানটাইম এবং বয়সের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও দর্শকেরা যেভাবে হলের টিকিট কাটতে ভিড় জমাচ্ছেন, তা যশের সর্বভারতীয় তারকাখ্যাতিরই স্পষ্ট প্রমাণ।
প্রথম দিনের সম্ভাব্য কালেকশন:
কেজিএফ ২-এর পর আবার ইতিহাস? হিন্দি বেল্টে যেখানে শুরুতে ‘টক্সিক’-এর প্রথম দিনের আয় ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি আশা করা হয়েছিল, সেখানে বুকিংয়ের প্রবল ঝড়ে সেই অঙ্ক অনেকটাই বদলে গেছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের বর্তমান হিসেব অনুযায়ী প্রথম দিনের সম্ভাব্য আয়ের ছবিটা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
- হিন্দি সংস্করণে আয় (Gross): এককভাবে কেবল হিন্দি বাজার থেকেই প্রথম দিনে ৪০ কোটি টাকারও বেশি গ্রস কালেকশনের আশা করা হচ্ছে।
- ভারতজুড়ে মোট আয় (India Gross): ভারতের সমস্ত ভাষা মিলিয়ে প্রথম দিনে ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা (গ্রস) ব্যবসার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।
- বিশ্বজুড়ে মোট আয় (Worldwide Gross): আন্তর্জাতিক বাজার এবং ভারতের স্পট বুকিং বা ওয়াক-ইন দর্শকদের ভিড় যুক্ত হলে বিশ্বজুড়ে প্রথম দিনেই ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার রেকর্ড ওপেনিং হতে চলেছে।
যদি ‘টক্সিক’ প্রত্যাশিত এই পরিসংখ্যান ছুঁতে পারে, তবে এটি হবে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর দ্বিতীয় কন্নড় সিনেমা, যা মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি পার করার গৌরব অর্জন করবে। পাশাপাশি রকিং স্টার যশ ভারতের হাতে গোনা সেই সব সুপারস্টারদের তালিকায় নিজের জায়গা আরও পাকাপোক্ত করে নেবেন, যারা বারবার গ্লোবাল বক্স অফিসে ১০০ কোটির বেশি ওপেনিং উপহার দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
’টক্সিক’ এমন এক সময়ে প্রেক্ষাগৃহে আসছে যখন সরাসরি বড় কোনো প্রতিযোগী সিনেমা বক্স অফিসে নেই। ফলে সোলো রিলিজের সুবাদে দেশের প্রধান প্রধান মাল্টিপ্লেক্স চেইন থেকে শুরু করে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে শো সংখ্যা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি এই ছবিকে।এখন কেবল দেখার বিষয়, প্রথম দিনের এই উন্মাদনার পর প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়া দর্শকদের মাউথ পাবলিসিটি ও পজিটিভ রিভিউ ছবিটিকে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কত দূর এগিয়ে নিয়ে যায়।
বড় পর্দায় যশের এই নতুন অবতারকে কেন্দ্র করে আপনার মতামত কী?
‘কেজিএফ’-এর রকি ভাইয়ের পর কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির কোনো ছবিকে কি আবার বিশ্বমঞ্চে এভাবে দাপট দেখাতে দেখে আপনি আশাবাদী? ‘টক্সিক’ কি পারবে প্রথম দিনেই ১২০ কোটির নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার নিজস্ব মতামত!
