​প্রথা ভাঙার চরম বিতর্কে কৃতি শ্যানন! বোনকে রাখী পরানোয় কটাক্ষ, ট্রোলারদের কড়া জবাব দিলেন নূপুর:

​রাখীবন্ধন মানেই ভাই-বোনের অটুট ভালোবাসার উৎসব, যেখানে বোন ভাইয়ের হাতে সুরক্ষার সুতো পরিয়ে দেয়। কিন্তু এই পবিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম কটাক্ষের শিকার হতে হলো বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন এবং তাঁর বোন নূপুর শ্যাননকে। কারণটা একেবারেই সাধারণ—তাঁদের কোনো আপন ভাই নেই, আর তাই প্রথা ভেঙে বছরের পর বছর ধরে দুই বোন একে অপরকে রাখী পরিয়ে আসছেন। তবে নেটিজেনদের একাংশ এই ‘প্রথা ভাঙা’ মেনে নিতে নারাজ। ইন্টারনেটে শুরু হওয়া এই লাগামহীন সমালোচনার মাঝেই এবার দিদির হয়ে ঢাল ধরলেন নূপুর শ্যানন। আসুন জেনে নিই, Kriti Sanon Rakhi Controversy এর কারন এবং social media কি প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।

​রাখীবন্ধন নিয়ে কৃতি ও নূপুরের প্রথা ভাঙার কারণ:​

শ্যানন পরিবারে কৃতি এবং নূপুর—এই দুই কন্যা সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তাঁরা একে অপরের সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং বিপদের বড় সহায়। ভারতীয় সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, রাখী কেবল ভাইয়ের হাতেই পরানো যায়।

কিন্তু কৃতি ও নূপুর বিশ্বাস করেন, যে মানুষটি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আপনাকে রক্ষা করে, সাপোর্ট দেয় এবং ছায়ার মতো পাশে থাকে, তাকেই রাখী পরানো উচিত। লিঙ্গ বা জেন্ডার এখানে কোনো বাধা হতে পারে না।

​এই বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর রাখীবন্ধনের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের হাতে রাখী বাঁধার আবেগঘন ছবি শেয়ার করেন তাঁরা। তবে নেটিজেনদের একাংশের কাছে এই আধুনিক চিন্তাধারা যেন চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং: কেন ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একাংশ?​

যেকোনো উৎসবের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এলেই ট্রোলাররা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কৃতি ও নূপুরের রাখী উদ্‌যাপন নিয়েও একাধিক নেতিবাচক মন্তব্য ধেয়ে এসেছে। মূলত যে বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ট্রোলিংয়ের সূত্রপাত।

  • ঐতিহ্য নষ্টের অভিযোগ: রক্ষণশীল মনোভাবের মানুষদের দাবি, রাখীবন্ধন একান্তই ভাই ও বোনের মধ্যকার একটি হিন্দু উৎসব। দুই বোন একে অপরকে রাখী পরিয়ে মূলত ধর্মীয় প্রথা ও ঐতিহ্যকে অপমান করছেন।​
  • ফেমিনিজমের তকমা: অনেকেই কমেন্ট বক্সে অভিযোগ করেন যে, কৃতি শ্যানন এসব করে “অযথা ফেমিনিজম (Feminism) বা নারী ক্ষমতায়ন” দেখানোর চেষ্টা করছেন।
  • ​পাব্লিসিটি স্টান্টের খোঁচা: বেশ কিছু ট্রোলারের মতে, যেহেতু কৃতি একজন জনপ্রিয় বলিউড স্টার, তাই লাইমলাইটে থাকার জন্যই তিনি ইচ্ছে করে প্রথা ভেঙে বিতর্ক তৈরি করছেন।

​বিতর্কের মাঝে কৃতি শ্যাননের পাশে বোন নূপুর​

অনলাইনে ক্রমাগত ধেয়ে আসা এই নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে চুপ করে বসে থাকেননি নূপুর শ্যানন। দিদির হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।

অনলাইন ব্যাকল্যাশ বা ট্রোলিংয়ের মাঝেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁদের এই ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে অযথা সমালোচনা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

​নূপুর তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন:​

  • তিনি নিজেই দিদি কৃতিকে ভালোবেসে রাখী পরান এবং এই প্রথা তাঁরা বছরের পর বছর ধরে পালন করে আসছেন।​
  • নূপুর প্রশ্ন তুলেছেন, যখন দুই বোন এই নিয়মে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন এবং আনন্দে উৎসব পালন করছেন, তখন বাইরের মানুষদের এটা নিয়ে এত সমস্যা কেন হবে?
  • ​তীব্র সমালোচনার মধ্যেও দুই বোন একে অপরের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নূপুর বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের কথায় কান না দিয়ে তাঁরা নিজেদের মতো করেই একে অপরকে সমর্থন করে যাবেন।

শাস্ত্রীয় নিয়ম নাকি আধুনিক ভাবনা—কৃতি শ্যাননের এই প্রথা ভাঙাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

​প্রাচীন নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলাই কি উৎসবের আসল সার্থকতা, নাকি সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের এই আধুনিক রূপান্তরকে সহজভাবে মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়? কৃতি ও নূপুর শ্যাননের বোনকে রাখী পরানোর এই উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রথা ভাঙার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে রক্ষণশীল সমাজের সাথে এক অদৃশ্য সংঘাত তৈরি করেছে। আপনার কি মনে হয়—প্রথা ভেঙে বোনকেই রক্ষাকর্তা হিসেবে মেনে কৃতি ও নূপুরের এই সিদ্ধান্ত একদম সঠিক, নাকি ধর্মীয় নিয়ম রক্ষা করে প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রাখাটাই শ্রেয় ছিল?

নিচে আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট করে জানান!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *